ট্রেনে করে বাংলাদেশ থেকে ৩০ ডিসেম্বর কলকাতায় গিয়েছিলেন চট্টগ্রামের হানি আহমেদ (২৫), মেহেবুব শাহরিয়র (২৬) এবং হান্নান আহমেদ (৩২)। কলকাতায় নিউমার্কেট এলাকায় একটি হোটেলে ওঠেন তারা।
৩১ ডিসেম্বর হোটেলের পাশেই তারা একটি ল্যাম্প পোস্টের গায়ে ‘রিল্যাক্সং বডি ম্যাসাজ’ সম্পর্কিত একটি বিজ্ঞাপন দেখেন। বিকালের দিকে বিজ্ঞাপনে দেয়া ফোন নম্বরে ফোন করতেই ম্যাসাজ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যের বিবরণ দেওয়া হয়। আশ্বস্ত হয়ে ওই পার্লারে যাওয়ার ব্যাপারে মনস্থ করেন তাদের একজন। এরপর এক ঘণ্টার মধ্যেই ওই ম্যাসাজ পার্লার থেকে মোটরসাইকেল পাঠিয়ে দেওয়া হয় নিউমার্কেটে হোটেলের ঠিকানায়।
তিন জনই বাইকে চেপে রওনা দেয় গিরিশ পার্ক এলাকায় অবস্থিত ওই ম্যাসেজ পার্লারের উদ্দেশ্যে। সন্ধ্যা নাগাদ গিরিশ পার্ক এলাকায় এসেই একটি বস্তির ভিতর বাইক ঢুকতেই সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু পার্লার থেকে পাঠানো এক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করতেই তাদের বলা হয়, এই পার্লারটি কলকাতার বহু পুরনো, পার্লারের ভেতরে ঢুকলেই বুঝা যাবে। এরপর আর প্রশ্ন না বাড়িয়ে হানি-মেহবুবরা চুপ করে যান।
পার্লারে পৌঁছাতেই রিসিপশনে বাকি দু’জনকে বসিয়ে রেখে ম্যাসাজ করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি যুবককে একটি নির্দিষ্ট ঘরে যেতে বলা হয়। ওই যুবক ম্যাসাজের জন্য নির্দিষ্ট বিছানায় বসতেই জোর করে যৌনাচার করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ওই যুবক বাইরে এসে যখন তার অন্য দুই বন্ধুকে ঘটনার কথা জানাতে থাকেন, ঠিক তখনই তাদের তিনজনকে ওই পার্লারের কয়েকজন ঘিরে ধরে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টাকা কেড়ে নেয়া হয়।
বিদেশের মাটিতে এমন একটি ঘটনার সাক্ষী হবেন, তা কল্পনাও করতে পারেননি তারা। জানাজানির ভয়ে গিরিশ পার্ক কিংবা নিউ মার্কেট থানাতেও ওই ঘটনার কথা জানাতে দ্বিধাবোধ করেন তারা। মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন এই বাংলাদেশিরা। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ওই তিনজনই বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
newssaradin.com
