রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনটি শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এই কর্মসূচি ঘোষণা করে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী রোহিঙ্গাদের হত্যা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারকে মিয়ানমারের উপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির দাবি জানিয়ে বলেন, “এরপরও যদি তারা রোহিঙ্গাদের গণহত্যা বন্ধ না করে তাহলে তাদের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক ছিন্ন করুন।”
গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে সেনা অভিযানের পর প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে বলে জাতি সংঘের হিসাব।
বাংলাদেশে আগে থেকে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। জঙ্গি তৎপরতাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে রোহিঙ্গাদের জড়িয়ে পড়ার কথাও এসেছে সরকারের পক্ষ থেকে।
রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পুলিশ ও সেনা চৌকিতে হামলার পর সেনা অভিযান শুরু হয়। রোহিঙ্গাদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মিকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে মিয়ানমার সরকার।
বাবুনগরী বলেন, “রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী বলা মানবাধিকার লঙ্ঘন। তারা মজলুম, নির্যাতিত।” পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অর্থ, খাবার, আশ্রয়ের ব্যবস্থা করারও আহ্বানও জানায় হেফাজত।
বাবুনগরী বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় রোহিঙ্গারা আমাদের আশ্রয় দিয়েছিল, ভারতে হিন্দুরা আমাদের আশ্রয় দিয়েছিল। তাহলে আমরা কেন তাদের আশ্রয় দিতে পারব না?”
রোহিঙ্গাদের জন্য আসা কিছু বিদেশি ত্রাণ সংসদ সদস্যরা নিজ এলাকায় বিতরণ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

