একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক মাওলানা এএসএম রেজাউল হক (৭০) ওরফে আক্কাস মৌলভীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে চেচুয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে একাত্তরে হত্যা, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে গ্রেপ্তার করা হয়।
মুক্তাগাছা থানার ওসি আবু মোহাম্মদ ফজলুল করিম তাকে গ্রেপ্তার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, মুক্তাগাছার পূর্ব চেচুয়া গ্রামের মৃত মুসলেম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল হক ওরফে আক্কাস মৌলভী একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মাদ্রাসাছাত্র থাকা অবস্থায় আলবদর বাহিনীতে যোগ দেয়।
তৎকালীন থানা আলবদর কমান্ডার সুরুজের নেতৃত্বে সুবর্ণখিলা গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আহমদ আলীসহ দুই মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, চেচুয়ায় হিন্দুবাড়িতে গণহত্যা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। পরে সেই হিন্দু বাড়ির সবাইকে তাড়িয়ে দিয়ে জমি জবরদখলের অভিযোগও রয়েছে। স্বাধীনতার পর তিনি আত্মগোপন করেন। পরে নিজের নাম আক্কাস আলী পরিবর্তন করে এ এস এম রেজাউল হক লিখেন।
১৯৭৫ সালে পটপরিবর্তনের পর সে প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসে। এরপর মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি সাবেক স্পিকার মরহুম শামছুল হুদা চৌধুরীর হাত ধরে প্রথমে বিএনপি ও পরে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি চেচুয়া দাখিল মাদ্রাসায় সুপার ও মুক্তাগাছা উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম-আহ্বায়ক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল তদন্ত শুরু করলে যুগ্ম-আহ্বায়কের পদ থেকে সরিয়ে তাকে উপজেলা জাপার সদস্য করা হয়।
