কত বিচিত্র সংস্কৃতির এই পৃথিবী। আরো বিচিত্র মানুষের যাপিত জীবন। এক সমাজে যেটা প্রথা বা বিধি-বিধান অথবা সংস্কৃতি হিসেবে প্রচলিত ও স্বীকৃত, অন্য সমাজে তা দৃষ্টিকটু কিংবা অন্যায়।
এখানে স্থান, কাল পাত্রভেদে একই বিষয়ের গুরুত্ব ও তাৎপর্য ভিন্ন। আর এসব নিয়ে পৃথিবী নামের গ্রহে বিচিত্র সমাজ ব্যবস্থা চলে আসছে আদিকাল থেকে। তেমনই একটি বিচিত্র সংস্কৃতি দেখা যায় বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতের আসাম, নাগাল্যান্ড ও মেঘালয়ে বসাবাসকারী মান্ডি সম্প্রদায়ের মধ্যে। @newssaradin
এই সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী- মেয়েদের জন্মদাতা বাবাকে বিয়ে করতে হয়। আর এজন্য বিয়ের সব আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয় মাকে। অর্থাৎ স্বামীর কাছে নতুন স্ত্রী হিসেবে সপে দিতে হয় মেয়েকে! তাই এ সম্প্রদায়ের মেয়েদের শ্বশুর বাড়ি হয়ে যায় নিজের বাড়িটিই।
৩০ বছর বয়সী মান্ডি কন্যা অরোলা ডালবোটের জীবন কাহিনী বেশ করুণ। ছোটবেলায় অরোলার বাবা মারা যান। তখন তার মা মিটটামনি নটেন নামে এক পুরুষকে বিয়ে করেন। পরে মায়ের নতুন স্বামী নটেনকেই রীতি অনুযায়ী অরোলাকে বিয়ে করতে হয়।
অরোলা বলেন, যখন বয়স বাড়তে থাকে, তখন একজন সুপুরুষকে স্বামী হিসেবে কল্পনা করতে শুরু করি। কিন্তু একদিন জানতে পেলাম তিন বছর বয়সে বাবার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়ে গেছে। তখন সব ছেড়ে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করেছিল।
বর্তমানে বাবা নটেনের ঔরসজাত তিন সন্তানের জননী অরোলা। ছেলের বয়স ১৬ বছর, মেয়ের বয়স ৯ বছর ও দুই বছর। অরোলার মায়েরও রয়েছে নটেনের ঔরসজাত দুই সন্তান। একজন ছেলে, অপরজন মেয়ে। সূত্র: দি গার্ডিয়ান
newssaradin.com
