হাফিজুলের বাবা রিপন শেখ পেশায় একজন রিকশাচালক। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুল মৃধার বাড়ির একটি কক্ষে ভাড়া থাকেন স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে। পয়লা বৈশাখের দিনে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হাফিজুলকে ঘরে ঘুম পাড়িয়ে রেখে তার মা লাভলী বেগম বাইরে যান। কিছুক্ষণ পর ঘুম থেকে জেগে উঠে কাঁদতে শুরু করে শিশু হাফিজুল। কান্নার শব্দে ঘুমাতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বাড়িওয়ালার স্ত্রী নূপুর বেগম।
তিনি রিপনের ঘরে ঢুকে হাফিজুলকে খাটের ওপর জোরে আছাড় মারেন। এতে তার বুকে ও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে এবং সে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় হাফিজুল।
হাফিজুলের বয়স ছিল মাত্র তিন বছর চার মাস। এই বয়সেই পৃথিবীর নির্মমতার শিকারে পরিণত হয়ে প্রাণটি দিতে হলো তাকে। কেন কাঁদতে গেলি বাপ! একটু চুপ করে থাকতে পারলি না? তাহলে তো প্রাণটা হারাতে হতো না তোকে।
শুধু কান্নাকাটি করার জন্য একটি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, ভাবতেই যেন কেমন লাগে। ইদানীং বলা হচ্ছে, দেশে শিশুহত্যা বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে সামাজিক অস্থিরতা। কিন্তু নূপুর বেগম কোন অস্থিরতায় ভুগছিলেন? একটি শিশুর কান্না কি এতটাই অসহ্যকর? তিনি নিজেই তো তিন সন্তানের মা। শিশুদের কান্না শুনে তো তিনি অভ্যস্ত। তাহলে কেন তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটালেন?
এই প্রশ্ন আপনার কাছে এই প্রশ্ন জাতির বিবেকের কাছে ?
newssaradin.com/১৬ এপ্রিল ২০১৬
