ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি সব ফিলিস্তিনি বন্দির মুক্তি চায় হামাস, এ জন্য বন্দি ইসরায়েলিদের দর কষাকষির উপায় হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটি।

হামাস ‘কী চায়’ সোমবার তা নিয়ে কথা বলেছেন গোষ্ঠীটির অন্যতম নেতা খালেদ মিশাল, নিজের বক্তব্যে বন্দিদের নিয়ে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি; জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মিশালের এ বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যে হামাসের সশস্ত্র শাখা আলাদাভাবে জানায়, বন্দিদের মধ্যে যারা ইসরায়েলের নাগরিক নন, অন্য দেশি, তারা হামাসের ‘অতিথি’ এবং তাদের ‘পরিস্থিতি যখন অনুমোদন করবে’ তখন মুক্তি দেওয়া হবে।

৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের ছিটমহল গাজা থেকে ইসরায়েলে নজিরবিহীন এক আকস্মিক হামলা চালিয়ে সবাইকে স্তম্ভিত করে দেয় হামাস। ওই দিন ভোরে প্রায় ২০ মিনিটের মধ্যে ইসরায়েলে হাজার হাজার রকেট ছুড়ে ও একই সময় হামাসের যোদ্ধারা দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হানা দিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তাদের আক্রমণে ১৩০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি নিহত হয়।

এ সময় ইসরায়েল থেকে প্রায় ২০০ বা তারও বেশি লোককে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যান হামাসের যোদ্ধারা, এদের মধ্যে ইসরায়েলিদের পাশপাশি অন্য বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকও আছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজায় হামাসের হাতে বন্দির সংখ্যা ১৯৯ জন। হামাস জানিয়েছে, তাদের হাতে ২০০ থেকে ২৫০ জন বন্দি আছে।  

ফিলিস্তিনের অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর মতো হামাসও দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলে কারগারগুলোতে বন্দি প্রায় ৬০০০ ফিলিস্তিনের মুক্তি দাবি করে আসছে।

হামাসের সাবেক প্রধান ও বর্তমানে গোষ্ঠীটির দোহা দপ্তরের প্রধান মিশাল আল আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “সব বন্দিদের (বন্দি করে রাখা) কারাগারগুলো খালি করার জন্য যা দরকার তা হামাসের আছে।”

২০১১ সালে বন্দি একজন একজন ইসরায়েলি সেনা, গিলাদ শালিতের মুক্তির বিনিময়ে কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছিল ইসরায়েল। এর আগে শালিত পাঁচ বছর ধরে বন্দি ছিলেন। তখন এই বন্দি বিনিময়কে ‘ভারসাম্যহীন’ উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেছিলেন কিছু ইসরায়েলি।

ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলার প্রতিক্রিয়ায় হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ২৭০০ গাজাবাসী ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েল বলেছে, তারা হামাসকে নির্মূল করার সময় বন্দিদের মুক্ত করবে।

By

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *