বড় পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উধাওয়ের ঘটনাটি চুরি নয় বলে দাবি করেছেন কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহম্মদ।
বুধবার ঢাকায় দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কয়লা গায়েবের ঘটনাটি ‘সিস্টেম লস’, তা তদন্তেই বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
কয়লা না পাওয়ায় গত জুলাই মাসে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কয়লা উধাও হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শোরগোল তৈরি হয়। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনির কয়লা দিয়েই পাশের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চলত।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দাবি করছেন, অনেক দিন ধরেই কয়লা নিয়ে দুর্নীতি চলছিল।
কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই খনির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ১৯ জনকে আসামি করে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা করেন কোম্পানির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান।
প্রাথমিক তদন্তে এক লাখ ৪৪ হাজার টন কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার প্রমাণ পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলার ১৯ আসামিসহ পেট্রোবাংলার ৩২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সোয়া ৩টা পর্যন্ত প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিনসহ আট আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক সামছুল আলম।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মামলার আসামি সাবেক এমডি হাবিব বলেন, “আমি শুরু থেকেই বলে এসেছি, কয়লা চুরি বা দুর্নীতি হয়নি।
“যেটুকু কয়লা গায়েব হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেটুকু প্রকৃত অর্থে সিস্টেম লস। আমাদের এখানে যেটুকু কয়লা উবে গেছে, তার পরিমাণ ১ দশমিক ৪ শতাংশের বেশি হবে না, অথচ আন্তর্জাতিকভাবে ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত সিস্টেম লস গ্রহণযোগ্য।”
তদন্তেই ‘প্রকৃত সত্য’ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন হাবিব; দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর জুলাই মাসে তাকে বড়পুকুরিয়া থেকে সরিয়ে পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের দপ্তরে আনা হয়।
