যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে এক ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক এসআইসহ তিন পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর দুই পুলিশকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
এদিকে, চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে চৌগাছা বাজারের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের স্বর্ণপট্টিতে সেনকো জুয়েলার্সের মালিক রবিন সেনের ছেলে রাজন সেন ওরফে বাপ্পির (২৫) কাছে ‘ইয়াবা ট্যাবলেট আছে’ বলে দোকান থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন চৌগাছা থানার এসআই কামরুজ্জামান, এএসআই আকবর আলী ও কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম।
ওই সময় চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবাদত হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান অ্যাডমিরাল সেখানে উপস্থিত হলে পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।
ইবাদত হোসেন বলেন, এক পর্যায়ে এসআই কামরুজ্জামান নিজের পিস্তল বের করেন। এ সময় উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা দোকানের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে কামরুজ্জামানকে আটকে ফেলেন।
“অন্য দুইজন এএসআই আকবর এবং কনস্টেবল নাজমুল দোকান থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান।”
ঘটনা শুনে বাজারের কয়েকশ ব্যবসায়ী ওই দোকান ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে।
ইবাদত হোসেন বলেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা পর চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের সহায়তায় থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন একদল নিয়ে এসআই কামরুজ্জামানকে উদ্ধার করে চৌগাছা থানায় নিয়ে যান।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
পরে দুপুর ২টার সময় চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে বাজারে মাইকিং করে চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিনসহ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এসআই কামরুজ্জামান, এএসআই আকবর ও কনস্টেবল নাজমুলকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বাজারের সব দোকান অনির্দষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন।
