বাবা হত দরিদ্র দিনমজুর তাই এসএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য স্কুলের ধার্য করা তিন হাজার টাকার পুরোটা যোগাড় করতে পারেনি ওই ছাত্রী। সামান্য কিছু বাকি ছিল, বিষয় টি কর্তিপক্ষ হয়ত মানবিক দৃষ্টিতে দেখবে মেয়েকে এমন আশ্বাস দিয়ে স্কুলে পাঠিয়েছিলেন বাবা।

কিন্তু সেই অল্প কিছু টাকা যোগাড় করতে না পারার অপরাধেই শ্রেণীকক্ষে সবার সামনে ওই ছাত্রীকে অশালিন ভাষায় গালিগালাজ করে, প্রয়োজনে পতিতাবৃত্তি করে হলেও বাকি টাকা সহ স্কুলে আসতে বলেন স্কুলটির সহকারী প্রধান শিক্ষক। জানিয়ে দেন তা ছাড়া পরীক্ষা দেয়া হবেনা। ক্লাসের ছাত্রীরা এবং অভিভাবক বৃন্দ এমন ই অভিযোগ করেছেন কেজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

ঘটনায় পর ওই ছাত্রী বাড়িতে ফিরে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ।জানা যায়, স্কুল ছাত্রীটি মোরেলগঞ্জ উপজেলার ভাইজোড়া গ্রামের হতদরিদ্র রুবেল শেখের মেয়ে। সে ২০১৬ সালের স্থানীয় কে, জি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী।পিতা রুবেল শেখ জানান, গত শনিবার অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার মেয়েও ফরম পূরণের টাকা জমা দিতে স্কুলে যায়।

পরিবারের অস্বচ্ছলতার কারণে স্কুলের ধার্যকৃত সাড়ে ৩ হাজার টাকার কিছু কম জমা দেয় সে।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম তালুকদার ওই ছাত্রীকে ক্লাস রুমে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ্যে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে। ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করতে প্রয়োজনে ‘পতিতাবৃত্তি’ করতে বলেন তিনি।এঘটনার পর বাড়ি ফিরে তার মেয়ে লজ্জা ও ঘৃণায় কয়েক দফা আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গত দু’দিন ধরে স্কুল যাওয়াসহ পড়ালেখা বন্ধ করে দিয়েছে সে। তিনি বলেন, আমি মেয়ের জীবন ও লেখাপড়া নিয়ে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি।

এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসির মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা অবিলম্বে ওই শিক্ষকের পদত্যাগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমানের সঙ্গে সন্ধায় মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদক কে বলেন “এমন একটি অভিযোগের কপি আমার দপ্তরে জমা হয়েছে। সর্বচ্চ গুরুত্বের সাথে বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে”

সূত্র : oximity .com

newssaradin .com /২২ ডিসেম্বর ২০১৫

By

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *