নিষিদ্ধ করা হলে খোলস পাল্টে নতুন রূপে ও নতুন সজ্জায় আবিভর্‚ত হবে জামায়াত। ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ নাম বদলে ফেলে নতুন নাম রাখা হবে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। এরপর নতুন নামের রাজনৈতিক দলটির নিবন্ধনের চেষ্টা করা হবে। মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় নিয়ে যাতে জনগণের কাছে আর বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য নতুন দলের নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে নবীনদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। যাঁদের বয়স স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় চার বা পাঁচ বছর ছিল বা তারও পরে যাঁদের জন্ম, এমন নবীনরাই দলটির নেতৃত্বে আসবেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানায়, শীর্ষস্থানীয় নেতারা বছরের পর বছর কারাগারে থাকার পরও তাঁদের পদ-পদবি প্রত্যাহার করা হয়নি। এর উদ্দেশ্য ছিল কর্মীদের মনোবল রক্ষা করা। কিন্তু সর্বশেষ গত শনিবার দলটির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর থেকে সারা দেশে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে হতাশা শুরু হয়েছে। দলের সর্বস্তরে বোধোদয় হয়েছে যে এ অবস্থায় পুরনো নেতৃত্বের ওপর ভর করে আর দলকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। তাই দলটির মধ্যম সারির নেতাদের পেছনে রেখে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা করছে জামায়াত।
জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বিরোধিতা করার কারণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন কর্মীরা দলে আসতে ভয় পাচ্ছে। কারণ যুদ্ধাপরাধের দায় দলটির প্রবীণ ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সঙ্গে নবাগতদেরও ভোগাচ্ছে। নাশকতা বা বোমা হামলা মামলায় যেসব নেতাকর্মী কারাগারে আছে বা যাচ্ছে তাদের জামিন থেকে শুরু করে মামলা পরিচালনা এবং তাদের পুরো পরিবারের দায় এখন দলকে নিতে হচ্ছে। এর ওপর আবার সরকারি নজরদারি ও আইনি তৎপরতার কারণে কঠিন সময় পার করছে জামায়াত।
নিউজ সারাদিন /২৬ নভেম্বর ২০১৫
