সংখ্যাটা এক কিংবা দুই নয়। সংখ্যাটা ৪৩। যার পেছনে রয়েছে আরও তিনটি শূন্য। সব মিলিয়ে ৪৩ হাজার। নারী পাচারের শিকার কারলা জাকিন্টো (বর্তমান বয়স ২৩ বছর), এখনও পর্যন্ত ৪৩,২০০ বার ধর্ষিতা হয়েছেন। ৪৩ হাজার বার ধর্ষণের যন্ত্রণা বুকে বয়ে নিয়ে যিনি এই কথা বলছেন তিনি কোনও ভিনগ্রহী নন, রক্তে মাংসে গড়া মানুষই। ১২ বছর বয়সে নারী পাচার চক্রের শিকার হন। ২০০৮ সালে তাঁকে উদ্ধার করে মেক্সিকো প্রশাসন।

মেক্সিকোর একটা বড় শহর গুয়াদালাজারা জন্ম। আর পাঁচটা মেয়ের মতই বড় হয়ে উঠছিল জাকিন্টো। বেড়ে উঠছিল তাঁর স্বপ্ন গুলোও। হঠাৎ এক অন্ধকারের সন্মুখীন। যে অন্ধকারে আলো নেই। নেই কোনও ভোর। ১২ বছর বয়সেই যৌন পল্লীতে দেহ ব্যবসায় ঠেলে দেওয়া হলে জাকিন্টোকে। টানা চার বছর নারকীয় অত্যাচারে বন্দি ছিলেন জাকিন্টো। ২০০৮ সালে যৌন পল্লী থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

নিজের জীবনের অন্ধকার সময়ের বর্ণনা করতে গিয়ে ২৩ বছরের কারলা জাকিন্টো বলছেন, “ইচ্ছা না থাকলেও, শেষ চার বছরে অন্তত ৩০ জন মানুষের সঙ্গে নানা সময়ে বিছানায় যেতে হয়েছে আমাকে। রাত ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আমাকে তাদের সঙ্গে থাকতে হত। আমি কাঁদতাম। ওরা আমার ওপর হাসত”।
“চোখ বন্ধ করে থাকতাম। ওরা আমার সঙ্গে কি করছে সেটা যাতে দেখতে না হয়। আমার যন্ত্রণা তাঁরা কখনও বোঝার দরকারই অনুভব করেনি”, নিজের যন্ত্রণার কথা জানান কারলা জাকিন্টো।

২৩ বছরের কারলা জাকিন্টো নারী পাচার চক্র নিয়েও অনেক তথ্য দেন। তাঁর দাবি, মেক্সিকোতে প্রতি বছর অন্তত ২০ হাজার মেয়ে নারী পাচার চক্রের শিকার হয়।
এখন নারী পাচার চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান প্রচার চালাচ্ছেন কারলা জাকিন্টো।

By

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *