যাত্রীবাহী একটি বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলের সীমানায় ঢুকিয়ে এটি ভাঙচুর করে আগুন দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আগের দিন হলের এক ছাত্রের সঙ্গে ভাড়া সংক্রান্ত ঝামেলা নিয়ে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

বাস ভাঙচুরের আগে বাসের চালক ও দুই শ্রমিককে বেধড়ক মারধর করেন শিক্ষার্থীরা। আহত ব্যক্তিরা হলেন চালক মোহাম্মদ আলী (৪১), ভাড়া আদায়কারী মিলান (২১) ও চালকের সহকারী মোহাম্মদ ফারুক (২৫)।

তাঁদের মুখে ও শরীরে রড ও লাঠি দিয়ে পেটানোর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হলের ছাত্রলীগের কর্মীরা এই ঘটনায় জড়িত।

আহত ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, বাসসহ তাঁদের গুলিস্তানের জিপিও থেকে ধরে নিয়ে আসা হয়। হলের ভেতর ঢুকিয়ে সেখানে ছাত্ররা বাসে আগুন ধরিয়ে দেন ও তাঁদের মারধর করে।

যোগাযোগ করা হলে শহীদুল্লাহ হল শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের রাকিব নামের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রের সঙ্গে গাজীপুর থেকে আসার পথে ভাড়া নিয়ে ঝামেলা হয়। তাঁকে শ্রমিকেরা মারধর করেন। পরে বিষয়টি তিনি হলের জ্যেষ্ঠ ছাত্রদের জানান। বিষয়টির আজ (মঙ্গলবার) মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ ছাত্ররা বসার আগেই কিছু ক্ষুব্ধ ছাত্র একটি বাস ধরে এনে এতে আগুন ধরিয়ে দেন। যাঁরা এই কাজ করেছেন, তাঁদের রাতের মধ্যে খুঁজে বের করা হবে।’

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ হলের ভেতর থেকে রেকার দিয়ে পুড়ে যাওয়া গাড়িটি থানায় নিয়ে গেছে। বাসের প্রায় সব সিট পুড়ে গেছে।

জানতে চাইলে শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আইনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছাত্ররা মেরেছে। ওরাও তো ছাত্রদের মারধর করেছে। এ বিষয়ে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিলে আসল ঘটনা জানা যাবে।’

By

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *