হঠাৎ করে সমশের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগের পর থেকে বিএনপিতে চলছে নানা আলোচনা। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, এই পদত্যাগে দল ভাঙবে না, তবে দলের মধ্যে সৃষ্ট অস্থিরতা শিগগিরই কাটবে না।
পদত্যাগ নিয়ে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া কেউই এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলছেন না। তবে বিএনপির মধ্যম সারির নেতা এবং অঙ্গসংগঠনগুলোর, বিশেষ করে ছাত্রদলের নেতারা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমশের মবিনের পদত্যাগ নিয়ে কথা বলেছেন। কেউ বলেছেন, এতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। আবার কেউ কেউ বলছেন, এ সিদ্ধান্ত দলের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, মাঠের রাজনীতিক না হওয়ায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে বিএনপির তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের অনেকে আবার বলছেন, বিএনপি এখন কঠিন সময় পার করছে। এ সময় সমশেরের মতো একজনের পদত্যাগ নেতা-কর্মীদের কাছে ভিন্ন বার্তা দিতে পারে। এ সময়ে তাঁর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি। তার ওপর তিনি যেভাবে জানান দিয়ে পদত্যাগ করেছেন, বিএনপির আদর্শ নিয়ে কথা বলেছেন, তা কর্মীদের হতাশ করতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, সমশেরের পদত্যাগের প্রভাব দলে ভালো হওয়ার কথা নয়। তিনি দীর্ঘদিন যেভাবে নিষ্ক্রিয় ছিলেন, সেভাবেই থাকতে পারতেন। কিন্তু জানান দিয়ে অবসর নেওয়ার ঘোষণা বিএনপিকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। এ কারণেই এটা নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। আর এমন সময়ে এ ঘোষণা দিয়েছেন, যখন বিএনপি নানামুখী চাপে আছে। দলীয় প্রধানও দীর্ঘ সময় ধরে দেশের বাইরে আছেন। তাঁর এই পদত্যাগের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

By